বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান গত ১৯ জুলাই বিকেল ৪টায় ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর ব্যবস্থা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মুক্তচিন্তা, সহাবস্থান, জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি । পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) পরিদর্শন করেন এবং ডাকসু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় ডাকসুর নেতৃবৃন্দ তাঁকে একটি শিল্পকর্ম ও পরিবেশবান্ধব গাছ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন গ্রাফিতি ও শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে ছাত্র প্রতিনিধিরা বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের অধিকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের সমস্যা, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, নারীদের অনলাইন নিপীড়নসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী-সংশ্লিষ্ট দাবি তাঁর কাছে তুলে ধরেন। ডা. শফিকুর রহমান মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং এসব বিষয় সংসদে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি উন্নত জাতি গঠনের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষা। তাই সরকারের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকারই হওয়া উচিত শিক্ষা। নৈতিকতা ও একাডেমিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত না হলে একটি আদর্শ জাতি গঠন সম্ভব নয়। শুধু একটি হল নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো সংসদে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল দেশের যুবসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম। এ আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি সবার সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও নেতৃত্বের ফসল। তাই ব্যক্তিগত কৃতিত্বের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য ও সম্মিলিত অবদানের মূল্যায়নের ওপর জোর দেন তিনি।
বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সমাজের বোঝা নয়; বরং দেশের মূল্যবান সম্পদ। তাদের মর্যাদা, অধিকার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি দেশের তরুণ-তরুণীদের দক্ষ, নৈতিক ও দেশগড়ার উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিশেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শিক্ষা, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে ইনসাফ, মানবিকতা, গণতন্ত্র, মর্যাদা ও জনগণের অধিকার সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের মানুষ বিশ্বদরবারে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।