সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ, যেখানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় আইএলও মহাপরিচালক উল্লেখ করেন যে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এই অনুকূল প্রেক্ষাপটে আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে আগ্রহী এবং দেশের শ্রম খাতের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আইএলও মহাপরিচালক আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। একই সঙ্গে স্বল্প সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্জিত অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্যের জন্যও তিনি বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বৈঠকে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং সার্বিক শ্রম খাতের উন্নয়ন ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া বৈঠকে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব, নিরাপদ ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, আইএলও মহাপরিচালকও বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং দেশের সামগ্রিক শ্রম খাতের উন্নয়ন ও কল্যাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।