“সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা পাপ না কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে এমন এক জাতি আনয়ন করবেন, যারা পাপ করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন।”
(সহিহ মুসলিম)
এই হাদীস ইসলামের মৌলিক এক দিক নির্দেশনা তুলে ধরে মানুষ ভুল করবে, কিন্তু ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই ঈমানের পরিপূর্ণতা।
ইসলামী গবেষকরা ব্যাখ্যা করেন, এই হাদীস পাপকে উৎসাহিত করে না; বরং মানুষের দুর্বলতা স্বীকার করে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমাশীলতার ঘোষণা দেয়।
মানুষ স্বভাবতই ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু সেই ত্রুটি যখন তাওবার মাধ্যমে সংশোধিত হয়, তখন তা আল্লাহর প্রিয় কাজ হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই হাদীস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষ পাপ করতে পারে, কিন্তু পাপের মধ্যে স্থায়ী থাকা ইসলামসম্মত নয়। বরং আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই প্রকৃত ঈমানের পরিচায়ক।”
তিনি আরও বলেন,
“আজকের সমাজে অনেকে নিজেদের ‘নির্ভুল’ ভাবার প্রবণতায় ভোগেন। অথচ ইসলাম শেখায় বিনয়ী হয়ে নিজের ভুল স্বীকার করাই প্রকৃত ধার্মিকতার লক্ষণ।”
বাংলাদেশের শীর্ষ ইসলামি বক্তা ও গবেষকরা বলেন—
এই হাদীস আসলে আশার বার্তা।
মানুষ যত বড় অপরাধই করুক না কেন, যদি সে আন্তরিকভাবে তাওবা করে, আল্লাহ তা’আলা তার সব গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন।
ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফয়সাল আহমদ বলেন,
“এটি এমন এক হাদীস যা হতাশ মানুষকে নতুন জীবনের আলো দেখায়। আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ হয় না। একবার নয়, শতবার ভুল করলেও ফিরে আসা যাবে তাঁর কাছে।”
মানুষ পাপ থেকে মুক্ত নয়, কিন্তু আল্লাহর রহমত সবকিছুর চেয়ে বিস্তৃত।
পাপ নয়, বরং পাপের পর তাওবা করার মানসিকতাই মুসলিম সমাজের শক্তি।
আল্লাহ তাআলা অনুতপ্ত বান্দাকে ভালোবাসেন এবং তাদেরই জন্য জান্নাত উন্মুক্ত রাখেন।
বর্তমান সময়ের হতাশা, মানসিক চাপ ও আত্মগ্লানির ভেতর এই হাদীস মুসলমানদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা বহন করে
“ভুল করলে ভয় পেও না, ফিরে এসো তোমার রবের দিকে।”
কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
“আমার রহমত সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করেছে।” (সূরা আল-আরাফ: ১৫৬)
রিপোর্ট প্রস্তুত: ধর্ম ও সমাজ বিভাগ
Daily Crisis BD