Daily crisis BD | ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তার ছায়া কাটিয়ে নতুন করে আশার বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন
ইনশাআল্লাহ, ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে জনগণের ভোটে, জনগণের সরকারের সূচনা।
আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকে ড. ইউনূস এই মন্তব্য করেন। উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা
নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই” প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় বার্তা
ড. ইউনূস বলেন নির্বাচন নিয়ে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, কিন্তু জনগণ নিশ্চিন্ত থাকুন ফেব্রুয়ারিতেই ভোট হবে। সময়সূচি পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই আসে না।”
তিনি আরও বলেন,
আমাদের লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা। এটাই হবে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের নতুন অধ্যায়।”
বৈঠকে সাংবাদিকরা “জুলাই সনদ” প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে প্রধান উপদেষ্টা সেটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন,
জুলাই সনদ ছিল গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পুনর্গঠনের একটি প্রাথমিক দিকনির্দেশনা। কিন্তু সেটি কোনো আইন বা স্থায়ী রূপরেখা নয়। দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশন ও রাজনৈতিক দলের পরামর্শেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
আমরা কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত সনদের ওপর নয়, বরং জনগণের ঐকমতের ভিত্তিতে কাজ করছি। জুলাই সনদকে অনেকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন সেটি ছিল একটি ট্রানজিশনাল রোডম্যাপ মাত্র।”
জুলাই সনদের বাস্তবতা
জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, ড. ইউনূসের বক্তব্য সেটির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে।
জুলাই সনদ” আসলে ছিল গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দিকনির্দেশনামূলক দলিল।
এটি কোনো নির্বাচনী রূপরেখা নয়; বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সাময়িক চুক্তি।
ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ফলে এখন পরিষ্কার নির্বাচনের বৈধতা ও সময় নির্ধারণ হবে বর্তমান ঐক্যমতের ভিত্তিতে, পূর্ববর্তী কোনো সনদের দ্বারা নয়।
রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব রশীদ বলেন,
ড. ইউনূসের এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট করেছে যে জুলাই সনদ কোনো বাধা নয়। বরং এটি ছিল একটি ট্রানজিশনাল প্রতিশ্রুতি, যা এখন নির্বাচনী বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে।”
আজকের বৈঠকে বিভিন্ন দল নির্বাচনকালীন প্রশাসনের ক্ষমতা ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে মতামত পেশ করে। সূত্র জানিয়েছে, অধিকাংশ দল ফেব্রুয়ারির সময়সূচিকে সমর্থন করেছে, তবে কয়েকটি দল এখনো কিছু কাঠামোগত নিশ্চয়তা চাইছে।
ড. ইউনূস বলেন,
আমরা চাই, সব দলই অংশগ্রহণ করুক। নির্বাচন হবে, কিন্তু কারও বাদে নয় এই নীতিতে আমরা অটল।”
বৈঠকে উপস্থিত জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রগতি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। এক কূটনৈতিক প্রতিনিধি বলেন,
বাংলাদেশ এখন সংলাপ ও ঐক্যমতের মাধ্যমে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু করছে এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসনীয়।”
বক্তব্যের শেষে ড. ইউনূস বলেন,
অরাজকতা নয়, আমরা এখন স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছি। গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও প্রশাসন— সব দিকেই পুনর্গঠন চলছে। জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত।”
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, প্রধান উপদেষ্টার এই স্পষ্ট ঘোষণা দুই দিকেই বার্তা দিয়েছে—
একদিকে নির্বাচনের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি দূর, অন্যদিকে জুলাই সনদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার।
ফলস্বরূপ দেশের রাজনীতি এখন নতুন এক ভারসাম্যের দিকে এগোচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জনগণের রায়ের উৎসব।”
এই বার্তাই এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।