জাতিসংঘের এক দতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের চলমান গণহত্যার মতো যৌথ অপরাধ ৬০টিরও বেশি দেশের বৈশ্বিক সমর্থনের কারণে সম্ভব হয়েছে। এই দেশগুলোর বেশিরভাগই ইউরোপীয়।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজের এই বছরের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে, এই গণহত্যাকে একটি যৌথ অপরাধ হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে, যা প্রভাবশালী তৃতীয় দেশগুলোর জটিলতার দ্বারা বজায় রাখা হয়েছে, যারা আন্তর্জাতিক আইনের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত লঙ্ঘন ঘটাতে ইসরায়েলকে সক্ষম করেছে।
আলবানিজে যুক্তি দিয়েছেন, এই তৃতীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক ঢাল, সামরিক সহায়তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণের কারণেই ইসরায়েল গাজায় তার আক্রমণ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। ঔপনিবেশিক মানসিকতার কারণে ফিলিস্তিনিদের অমানবিকীকরণ করে এই ভয়াবহতা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
আলবানিজে এই সহায়তাগুলোকে চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন, কূটনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমারা ইসরায়েলকে কূটনৈতিকভাবে দায়মুক্ত করার মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা গণহত্যা চালিয়ে যেতে সাহস পেয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক আলোচনায় “ইসরায়েলি ভাষ্যের পুনরাবৃত্তি” হয়েছে এবং হামাস ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ভেটো ক্ষমতা সাতবার ব্যবহার করে যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং গণহত্যার জন্য কূটনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস-এর মতো দেশগুলোর বিরত থাকা বা দুর্বল খসড়া প্রস্তাব অনুমোদনে বিলম্ব কার্যকর পদক্ষেপকে স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং অগ্রগতির একটি বিভ্রম তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুল্ ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করলেও তারা নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। কিছু আঞ্চলিক শক্তি লোহিত সাগরকে এড়িয়ে ইসরায়েলের জন্য স্থলপথের সুবিধা দিয়েছে।
মিশর ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যার মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা এবং রাফা ক্রসিং বন্ধ রাখা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।