ঢাকা, ০৩ নভেম্বর ২০২৫:
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক সংস্কার দাবিতে সমমনা আটটি রাজনৈতিক দল নতুন করে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম সংলগ্ন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদের আদেশ জারি, সংশোধিত আরপিও বহাল রাখা এবং পৃথক গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দলগুলো জানায়, প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এই দাবিসমূহ তুলে ধরে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
ঘোষিত পাঁচ দফা দাবি:
১️⃣ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের উপর পৃথক গণভোট আয়োজন; উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত সংশোধিত আরপিওতে আর কোনো পরিবর্তন না করা।
২️⃣ আগামীর সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি চালু করা।
৩️⃣ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকল দলের জন্য সমান রাজনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করা।
৪️⃣ অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
৫️⃣ স্বৈরাচারের সহযোগী রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জাতীয় পার্টি ও ১৪-দলীয় জোটের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
নতুন কর্মসূচি:
১️⃣ ৬ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।
২️⃣ দাবির বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ঢাকায় বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
উপস্থিত ছিলেন:
যৌথ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বিডিপি সভাপতি এডভোকেট এ. কে. এম. আনোয়ারুল ইসলাম চান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবং আরও অনেকে।
আট দলের যৌথ উদ্যোগ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি সমন্বিত ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্য প্রচেষ্টার অংশ। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাস এবং নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরছে।
একই সঙ্গে নির্বাচনী সংস্কার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রাজনৈতিক মহল বলছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এই ঘোষণাটি সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদের ওপর নতুন রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।