ঢাকা, ৩ নভেম্বর ২০২৫:
তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানবিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার রাজধানীর যমুনা স্টেট গেস্ট হাউসে তুর্কি সংসদের সদস্য এবং তুর্কি-বাংলাদেশ সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপের চেয়ারপার্সন মেহমেত আকিফ ইয়েলমাজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এক সংসদীয় প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং মানবিক কার্যক্রমের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
মেহমেত আকিফ ইয়েলমাজ বলেন, “বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গভীরভাবে প্রোথিত।” তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও মানবিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধি দলটি এর আগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল ও বিভিন্ন তুর্কি সংস্থার মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। বৈঠকে তারা সেসব অভিজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শেয়ার করেন।
অধ্যাপক ইউনূস তুরস্ক সরকারের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট আমাদের সময়ের অন্যতম গভীর মানবিক ট্র্যাজেডি। এই মানুষগুলো কেবল মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের নাগরিকত্ব ও মর্যাদা হারিয়েছে। আট বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সুযোগ এখনো সীমিত — যা উদ্বেগজনক।”
তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলেছে। তুর্কি উদ্যোক্তাদের আমি আমন্ত্রণ জানাই—বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, এখান থেকে আপনি বিশ্ববাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ পাবেন।”
অধ্যাপক ইউনূস তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়িপ এরদোগান এবং ফার্স্ট লেডির প্রতি বাংলাদেশের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে মানবিক ও উন্নয়ন সহযোগিতায় তাদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ টার্কিয়ার সঙ্গে হাতে হাত রেখে কাজ করতে প্রস্তুত, আমাদের জনগণ ও ভবিষ্যতের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচনে।”