সীমান্ত সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে; পর্যটন কেন্দ্র আংকোর ওয়াটের কাছাকাছি এলাকায় হামলায় উদ্বেগ
থাইল্যান্ডের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কাম্বোডিয়ার ওদ্দার মিয়াঞ্চে ও সিয়েম রিয়াপ প্রদেশে বোমা হামলা চালিয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে হামলায় সীমান্ত সংঘাত আরও তীব্র।
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে থাই বিমান হামলা কাম্বোডিয়ার ভেতরে আরও গভীরে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি। বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি এবং পর্যটন নগরী সিয়েম রিয়াপের নিকটে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কাম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার থাইল্যান্ডের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশ ওদ্দার মিয়াঞ্চের চং কাল জেলায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে দুটি বোমা নিক্ষেপ করে। একই দিনে ওদ্দার মিয়াঞ্চের দক্ষিণে অবস্থিত সিয়েম রিয়াপ প্রদেশের স্রেই স্নাম জেলাতেও হামলা চালানো হয়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, স্রেই স্নামে একটি সেতুকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এলাকাটি কাম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতীক ও প্রধান পর্যটন কেন্দ্র আংকোর ওয়াট থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে।
তথ্যমন্ত্রী নেথ ফিয়াকত্রা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, চলমান এই সংঘাতে এই প্রথম থাই সামরিক বাহিনী সিয়েম রিয়াপ প্রদেশের ভেতরে হামলা চালাল।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৭ ডিসেম্বর সীমান্তে একটি সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। ওই ঘটনায় দুইজন থাই সেনা আহত হন এবং গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় পাঁচ দিনের সংঘর্ষ শেষে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা ভেঙে যায়।
সর্বশেষ এই সংঘাতে সীমান্ত এলাকায় দুই ডজনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উভয় পক্ষই জানিয়েছে, সোমবারও সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ ও বিমান হামলা অব্যাহত ছিল।
সংঘাত শুরুর তারিখ: ৭ ডিসেম্বর
আক্রান্ত এলাকা: ওদ্দার মিয়াঞ্চে, সিয়েম রিয়াপ
পর্যটন ঝুঁকি: আংকোর ওয়াটের নিকটবর্তী এলাকা
বাস্তুচ্যুত: ৫ লক্ষাধিক
নিহত: দুই ডজনের বেশি