সংযুক্ত আরব আমিরাত–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার
সানা | ৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ‘সীমিত প্রাক-প্রতিরোধমূলক হামলা’ চালিয়েছে।
মূল সংবাদ
বুধবার এক বিবৃতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, দক্ষিণ ইয়েমেনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি রোধে এ হামলা চালানো হয়েছে।
জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মাসে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সৌদি সীমান্তসংলগ্ন হাদরামাউত প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয় এবং সেখানে অবস্থানরত সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে। তবে গত সপ্তাহে জোটের বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের মুখে তারা ওই এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারোস আল-জুবাইদির নেতৃত্বে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। জোটের মতে, সংঘাত আল-ধালে গভর্নরেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় দ্রুত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, “নিরাপত্তা জোরদার ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইয়েমেনি সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
সংঘাত প্রশমনের অংশ হিসেবে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারোস আল-জুবাইদির মঙ্গলবার সৌদি রাজধানী রিয়াদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে জোটের দাবি অনুযায়ী, তার বিমান নির্ধারিত সময়ের পরে ছেড়ে যায় এবং তিনি সেই ফ্লাইটে ছিলেন না। ফলে আল-জুবাইদি বর্তমানে ‘অজানা স্থানে পালিয়ে গেছেন’, যা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ভেতরে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ইয়েমেন সংকটের পটভূমি
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের দুর্বল দক্ষিণভিত্তিক সরকারের ভিন্ন ভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এর আগে দুই দেশ একসঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যুক্ত হয়ে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়।
উল্লেখ্য, হুতি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ দখল করে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করে, যার মধ্য দিয়ে দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।