মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি নারী; সাত আসনে জয়–পরাজয় নির্ধারণে তাদের ভোট টানতে সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াত
ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ায় নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে মাঠে নেমেছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। জেলার সাতটি আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষ ভোটারের তুলনায় বেশি হওয়ায় এবারের নির্বাচনে নারী ভোটাররাই জয়–পরাজয়ের বড় নির্ধারক হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বগুড়া জেলার সাতটি নির্বাচনি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের নারী নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। নারী ভোটারদের প্রভাব বিবেচনায় রেখে সংগঠিতভাবে মাঠে কাজ করছে জামায়াতের মহিলা শাখা ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা। তারা ব্লক ও ওয়ার্ডভিত্তিকভাবে নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৫৬ হাজার। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৪ লাখ ৮৮ হাজার এবং পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৬৭ হাজার। অর্থাৎ নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে ২১ হাজার বেশি। এই ব্যবধান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
ভোটার তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কাহালু–নন্দীগ্রাম (আসন-৪), সারিয়াকান্দি–সোনাতলা (আসন-১) এবং শাজাহানপুর–গাবতলী (আসন-৭) এলাকায় নারী ভোটারের সংখ্যা বিশেষভাবে বেশি। এসব আসনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচার কৌশলে পরিবর্তন এনেছে।
জামায়াতের মহিলা শাখার নারীকর্মীরা ভোর থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রুপভিত্তিকভাবে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি গ্রুপে ১০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত নারী ভোটারের তালিকা ধরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে মেসেজ ও ভয়েস কলের মাধ্যমেও ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
জেলা জামায়াতের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদিকা ডা. মাকসুদা করিম বলেন, “আমরা অনেক আগেই মাঠে নেমেছি। নারীদের উদ্বুদ্ধ করছি, যাতে তারা আমাদের প্রার্থীকে ভোট দেন।”
অন্যদিকে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার বলেন, “প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো নারী ভোটারদের সম্পৃক্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক করছে।”
তবে নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারি পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুশাসনের জন্য প্রশাসন (সুপ্র)-এর সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধনে সচেতনতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নারীদের সম্পৃক্ততার কারণে নারী ভোটারের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
টিএমএসএসের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বলেন, আগে ভোট সুষ্ঠু না হওয়ায় অনেক নারী কেন্দ্রে যেতেন না। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ফলে এবারের নির্বাচনে নারী ভোটাররাই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব আসনে জয়–পরাজয়ের ব্যবধান খুব বেশি হবে না। তাই সংগঠিত নারী ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।