কুমিল্লা, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সবকটি ১২৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অতীতের জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের ১৭টি উপজেলার মোট ১ হাজার ৪৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২২৭টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা, যিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
এছাড়া এই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—
ইসলামী আন্দোলনের মহিউদ্দিন পাটোয়ারী শহীদ (হাতপাখা),
বাংলাদেশ গণফ্রন্টের অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন (মাছ),
জাতীয় পার্টির মো. মাইন উদ্দিন (লাঙ্গল),
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিযুদ্ধ জোটের মো. ইউসুফ (ছড়ি),
বাংলাদেশ কংগ্রেসের আ ফ ম আব্দুর রহিম (ডাব)।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরুল আমিন জানান, নির্বাচন ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার অধিক সংখ্যক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও ব্যাটেলিয়ন আনসার মোতায়েন থাকবে।
এদিকে কুমিল্লা জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) ১৭টি,
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) ২৮টি,
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ২৫টি,
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) ১৯টি,
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) ১৭টি,
কুমিল্লা-৬ (সদর) ৩৩টি,
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) ২৮টি,
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) ১৩টি,
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) ১৮টি,
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) ১৮টি এবং
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ২৯টি কেন্দ্র।