ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তিন লাখেরও বেশি উদ্যোক্তার (এজেন্ট) সন্তানদের অংশগ্রহণে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ। ‘সন্তানের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত’ শীর্ষক এই আয়োজনটি পরিচালনা করছে নগদ ইসলামিক।
‘সন্তানের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত’ নামের প্রতিযোগিতাটি ইতোমধ্যে নগদ উদ্যোক্তাদের সন্তানদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আয়োজকদের লক্ষ্য, পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা।
প্রতিযোগিতাটি তিনটি বয়সভিত্তিক বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে—
- প্রথম বিভাগ: ৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশু
- দ্বিতীয় বিভাগ: ৬ বছরের বেশি থেকে ১১ বছর বয়সী শিশু
- তৃতীয় বিভাগ: ১১ বছরের বেশি থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী
অংশগ্রহণের নিয়ম অনুযায়ী, নগদের উদ্যোক্তারা তাদের সন্তানের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের এক থেকে দুই মিনিটের একটি ভিডিও ধারণ করে নির্ধারিত গুগল ফর্ম লিংকে আপলোড করবেন। আপলোডের সময় প্রয়োজনীয় তথ্যও প্রদান করতে হবে।
দেশকে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সুবিধার্থে ভাগ করা ১০টি অঞ্চলের সকল নগদ উদ্যোক্তার সন্তানরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি উদ্যোক্তার সন্তান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। প্রতিদিনই নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়ছে।
প্রাপ্ত ভিডিওগুলো নগদ ইসলামিক-এর শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি অঞ্চলের প্রতি বয়স শ্রেণী থেকে তিনজন করে মোট ৯০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। এর মধ্যে প্রতিটি অঞ্চলের প্রতি বয়স শ্রেণীর প্রথম স্থান অর্জনকারী মোট ৩০ জন প্রতিযোগী ঢাকায় নগদের প্রধান কার্যালয়ে গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৬০ জনকে বিশেষ সনদ দেওয়া হবে।
চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিটি বয়স শ্রেণী থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৯ জন জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। বিজয়ীদের আকর্ষণীয় নগদ অর্থ পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। ফাইনালিস্টদের সঙ্গে একজন করে অভিভাবককে সমাপনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
পুরো আয়োজন সম্পর্কে নগদ ইসলামিক শরীয়াহ সুপারভাইজারি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম শহীদুল ইসলাম বারাকাতি বলেন, বিগত আয়োজনের ধারাবাহিকতায় আবারও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিযোগিতা শিশুদের শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখার আগ্রহ বাড়াবে এবং তাদের নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
এর আগেও ‘সন্তানের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত’ আয়োজন ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।