ঢাকা | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ-এর শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন মোল্লাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. সিদ্দিক ও মো. শান্ত মিয়া। রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত-এর বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শহীদ উদ্দিন জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি লাশ গুমের অপরাধে প্রত্যেককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি শান্ত মিয়া পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ মে রাতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ইকরামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার বন্ধু শান্ত মিয়া ও সিদ্দিক। পরে খিলক্ষেত থানাধীন পাতিরা ও ডুমনি এলাকার মাঝামাঝি বসুন্ধরা বালুর চরে নিয়ে তাকে হাতুড়ি ও ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ডোবায় ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ৬ মে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানা-য় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।