প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতরের আনন্দে রাজধানীবাসী অংশ নিয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল ঈদ উৎসবে। মেহেদি উৎসব, রাজপথে ঈদমিছিল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুড়ি উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের হারানো ঈদঐতিহ্য পুনর্জাগৃত হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয় রবীন্দ্র সরোবরে মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা দিয়ে। নগরবাসী জুমার নামাজের পর ঘোড়ার গাড়িতে শহর পরিক্রমা করে ‘শাহি এলান’-এর মাধ্যমে উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান পান। ইফতারের পর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের উন্মুক্ত চত্বরে মেহেদি শিল্পীরা দর্শনার্থীদের হাতে মেহেদি লাগিয়ে দেন, সঙ্গে মঞ্চে চলছিল কাওয়ালি ও জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
ঈদের দিন জাতীয় ঈদগাহে জামাতের পর শুরু হয় রাজপথে বর্ণাঢ্য ঈদমিছিল। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত মিছিল চলতে থাকে, যেখানে রাজকীয় সাজসজ্জা, হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, বাদক দল ও সার্কাস পার্টির বিনোদন প্রদর্শিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ‘ঈদ মোবারক’ এবং ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ নানা স্লোগান দেন।
উৎসবের সমাপ্তি ঘটে ২২ মার্চ বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ‘ঘুড়ি উৎসব’-এর মাধ্যমে। ঘুড়ি উড়ানো এবং সৃজনশীল ক্রিয়াকলাপ শিশু ও পরিবারদের জন্য আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করে। আয়োজকরা উল্লেখ করেন, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসবের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উৎসবটি নাগরিকদের মধ্যে হারানো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার অভূতপূর্ব সাড়া সৃষ্টি করেছে। আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, ভবিষ্যতেও প্রতি বছর এই ধরনের উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দেশের সব মানুষ একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে।