ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৫: চুল পড়া বা আলোপেসিয়া আজকাল অনেকেরই সাধারণ সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল পড়ার কারণ বিভিন্ন হতে পারে—হরমোনজনিত সমস্যা, পুষ্টি ঘাটতি, মানসিক চাপ, বংশানুক্রমিকতা, রোগ বা ঔষধের প্রভাব, এবং চুলের অযত্ন।
চুল পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো:
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: পুরুষ ও মহিলা হরমোনের অভাবে চুল পাতলা হওয়া বা পড়া।
পুষ্টি ঘাটতি: প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন D, B12, জিঙ্কের অভাবে চুলের বৃদ্ধি কমে যায়।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ হরমোন কোর্সটিসল বাড়িয়ে চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
বংশানুক্রমিক কারণ: পরিবারে চুল পাতলা হওয়ার ইতিহাস থাকলে অনুকরণ করা সম্ভব।
রোগ ও ঔষধ: থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, অটোইমিউন রোগ এবং কেমোথেরাপি চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
চুলের যত্ন ও পরিবেশ: অতিরিক্ত হিট, কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, শক্তভাবে চুল বাঁধা এবং সংক্রমণও প্রভাব ফেলে।
চিকিৎসকরা চুল পড়া কমাতে নিম্নলিখিত পরামর্শ দেন:
- সুষম খাদ্য: প্রোটিন, মাছ, ডিম, বাদাম, শাকসবজি, দুধ ও দই খাবারে অন্তর্ভুক্ত করুন।
- হরমোন ও রোগ নিয়ন্ত্রণ: থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, PCOS-এর চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।
- চুলের যত্ন: হালকা চুল বাঁধা, হিট কম ব্যবহার এবং নিয়মিত হেয়ার অয়েল ম্যাসাজ।
- মানসিক চাপ কমানো: ধ্যান, যোগব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম।
- চিকিৎসা ও ঔষধ: মিনোক্সিডিল, ফিনাস্টারাইড এবং প্রয়োজনে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট।
- সংক্রমণজনিত সমস্যা: কেটোকনাজোল বা সেলেনিয়াম সালফাইডযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, হঠাৎ বা অত্যধিক চুল পড়ার ক্ষেত্রে ডার্মাটোলজিস্ট বা ট্রাইকোলজিস্ট-এর পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সঠিক কারণ না জেনে ওষুধ বা কেমিক্যাল ব্যবহার চুলের ক্ষতি বাড়াতে পারে।