রিয়াদ–আবুধাবি | জানুয়ারি ২০২৬
উপসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক নতুন বছরে এসে প্রকাশ্য উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। এক সময় অকল্পনীয় বলে বিবেচিত এই মতবিরোধ এখন খোলাখুলি শত্রুতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।
এর আগে তেল উৎপাদন, সুদানের যুদ্ধ কিংবা ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা কখনোই প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় সেই নীরব দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। মঙ্গলবার দক্ষিণ ইয়েমেনের বন্দরনগরী আল-মুকাল্লায় সৌদি আরবের বিমান হামলার পরপরই আবুধাবির সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনায় পৌঁছে যায়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি অস্ত্রের চালান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে, যা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) জন্য পাঠানো হচ্ছিল। হামলার পর বিরলভাবে আবুধাবির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে রিয়াদ। সৌদি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আমিরাতের ‘প্রচণ্ড বিপজ্জনক আচরণ’ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
এর জবাবে আমিরাত সৌদি অভিযোগকে ‘মৌলিকভাবে ভুল তথ্য’ বলে আখ্যা দেয়। দুই দেশের রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মধ্যেও শুরু হয় তীব্র বাকযুদ্ধ। আমিরাতি বিশ্লেষক আবদুল খালেক আবদুল্লাহ বলেন, দক্ষিণ ইয়েমেনে সৌদি হামলা কোনোভাবেই ‘বাহাদুরির নিদর্শন’ নয়।
অন্যদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি বিশ্লেষক আবদুল আজিজ আলগাশিয়ান বলেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখান থেকে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর অভিযোগ, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলো ভৌগোলিক সীমান্ত ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর চেষ্টা করছে, যার সুবিধা পাচ্ছে আমিরাত।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও আমিরাতের বর্তমান প্রকাশ্য বৈরিতা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বেকার ইনস্টিটিউটের ফেলো ও উপসাগরীয় বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টেইন আলরিকসন মিডল ইস্ট আইকে বলেন, কয়েক বছর ধরে চলা এই মতবিরোধ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রচলিত কূটনৈতিক সমাধান আর কার্যকর থাকছে না।
সুদান ও ইয়েমেনের যুদ্ধ, সোমালিল্যান্ড ইস্যু এবং আধা-সামরিক বাহিনীগুলোর প্রতি সমর্থন—সব মিলিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে বিভাজনের রেখা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই দ্বন্দ্ব কতদূর গড়ায় তার ওপরই নির্ভর করবে ২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।