চট্টগ্রাম | শনিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন দুটি পদ সৃষ্টি করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। এ উদ্যোগকে ঘিরে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা পরিষদে নতুন দুটি পদ সৃষ্টি করে নৌ পরিবহন ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দুই কর্মকর্তাকে বোর্ড সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিতে চায়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন দুই বোর্ড সদস্য রাজধানী ঢাকায় নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে বসে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এ প্রস্তাব মেনে নিতে পারছেন না চট্টগ্রাম বন্দরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আশঙ্কা, ঢাকায় বসে বোর্ড সদস্যদের কার্যক্রম বন্দরের অপারেশনাল কাজে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়বে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, বর্তমানে বন্দর আইন ২০২২ অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যান ও চার সদস্যের সমন্বয়ে বোর্ড পরিচালিত হচ্ছে। চার সদস্যের মধ্যে রয়েছেন—সদস্য (প্রশাসন), সদস্য (অর্থ), সদস্য (হারবার ও মেরিন) এবং সদস্য (প্রকৌশল)। এদের মধ্যে দুজন নৌবাহিনী থেকে আগত এবং বাকি দুজন সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা। এই চার কর্মকর্তা বন্দরের চারটি মূল সেক্টরের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।
আইন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানকে দাপ্তরিক কাজে রাজধানীসহ দেশের বাইরে অবস্থান করতে হলেও বোর্ডের চার সদস্য সার্বক্ষণিক বন্দরের কার্যক্রম তদারকি করেন। নতুন প্রস্তাবিত দুই সদস্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সেক্টরের দায়িত্ব না থাকায় মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডে তাদের দায়বদ্ধতা থাকবে না বলে অভিযোগ করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে, যা বন্দরের স্বাভাবিক গতিশীলতা ব্যাহত করবে। তারা আরও জানান, বর্তমান আইনে নতুন দুটি পদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ না থাকায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ১৪ ডিসেম্বর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘চবক’ শাখা থেকে অফিস আদেশ জারি করে আইন সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রস্তাবিত নতুন আইনটি ‘বন্দর আইন, ২০২৫’ নামে প্রণয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব আহ্বায়ক, একজন উপসচিব সদস্যসচিব এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চারজন কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (প্রশাসন) ও বন্দর বিশেষজ্ঞ জাফর আলম বলেন, ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ের একটি চক্র বোর্ডে নিজেদের প্রতিনিধি ঢোকানোর চেষ্টা করে আসছে। তার মতে, বোর্ডে সংস্কার আনতে হলে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল ওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ঢাকাকেন্দ্রিক আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বন্দরের সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক জানান, আইন সংশোধন সংক্রান্ত কমিটি এখনও কোনো সুপারিশ দেয়নি। বোর্ড সদস্য বাড়ানোর বিষয়ে কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। তবে বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়—এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।