তজুমদ্দিনে শ্রমিক দল ও যুবদল নেতাদের অনুসারীদের সংঘর্ষ, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
ভোলা — ৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শশীগঞ্জ দক্ষিণ বাজার এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে চারজনকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. নোমান (২৫), আব্দুল গফুর (৩৫), মিরাজ (২৫), আল-আমীন (২৫) ও রুবেল (৩৫)।
চিকিৎসকরা জানান, আহত আল-আমীনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের সঙ্গে স্থানীয় যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার ও মিজান গ্রুপের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিক দল সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের দ্বারা অতীতে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের মালামালের হিসাব বুঝে নিতে গেলে যুবদলের একটি অংশ বাধা দেয়। এ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।”
অন্যদিকে যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “ইকবাল লিটন বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এর জেরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমাদের পক্ষেরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।”
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”