সরকার দ্বীপের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক পর্যটন নিশ্চিত করতে চারটি বিশেষ জোন তৈরি করছে
ঢাকা — ৬ জানুয়ারি ২০২৬
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে রেস্ট্রিক্টেড জোনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। সরকার দ্বীপের হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে জোর দিচ্ছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
পরিকল্পনা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী
রিজওয়ানা হাসান বলেন,
“সেন্ট মার্টিনে পর্যটন হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক। ৮ হাজার মানুষের দ্বীপে প্রতিদিন যদি ১০ হাজার পর্যটক আসে, তা স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে প্রভাবিত করবে। তাই পর্যটন নিয়ন্ত্রিত হবে।”
দ্বীপের বাসিন্দাদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখবে। হস্তশিল্প, মাছ ধরা এবং নিয়ন্ত্রিত পর্যটনই এই বিকল্প কর্মসংস্থানের মূল ক্ষেত্র হবে।
পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন,
“দ্বীপের একটি অংশ ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্বীপের অস্তিত্ব সংকটে আছে, অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম এই সংকটকে ত্বরান্বিত করছে।”
সেন্ট মার্টিনের চারটি জোন
সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) খসড়া মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে। জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ এইচ এম নুরুল ইসলাম কর্মশালায় জানিয়েছিলেন:
- জেনারেল ইউজ জোন (General Use Zone)
- পর্যটন ও সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো যাবে
- সব হোটেল ও রিসোর্ট এখানে থাকবে
- ম্যানেজড রিসোর্স জোন (Managed Resource Zone)
- কচ্ছপ প্রজননের এলাকা
- পর্যটক দিনে ঘুরে বেড়াতে পারবে, রাতে থাকতে পারবে না
- স্থানীয়রা কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে না
- সাসটেইনেবল ইউজ জোন (Sustainable Use Zone)
- প্রাকৃতিক ঝোপঝাড়, লেগুন ও ম্যানগ্রোভ বন
- স্থানীয়দের টেকসই ব্যবহার সরকার নির্ধারণ করবে
- পর্যটক দিনে ঘুরতে পারবে, রাতে থাকতে পারবে না
- রেস্ট্রিক্টেড জোন (Restricted Zone)
- জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
- কাউকেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না
সরকারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
- ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব:
“সেন্ট মার্টিন রক্ষার জন্য কী করতে হবে, সেটা বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দ্বীপের টেকসই ব্যবস্থাপনার মূল পরিকল্পনা হলো এই মহাপরিকল্পনা।”
- মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তর:
“ঘুরে দেখলাম, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ফিরে আসছে। প্রকৃতিবান্ধব স্থাপনা নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
- সোনালী দায়ারত্নে, UNDP বাংলাদেশ:
“সেন্ট মার্টিনের মতো জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ দ্বীপের সংরক্ষণ পরিকল্পনায় সহযোগিতা করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”