ফজরের আজানের আগে আগুন দেখতে পেয়ে মাইকে ঘোষণা দেন ইমাম, প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন
টংগিবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ), বাংলাদেশ — ১১ জানুয়ারি ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় ভোররাতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এতে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামালসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে টংগিবাড়ী উপজেলার কাইচ মালধা গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফজরের নামাজের আজান দেওয়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় কাইচ মালধা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কালাম প্রথমে আগুন দেখতে পান।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন। ঘোষণার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন এবং একই সঙ্গে টংগিবাড়ী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
খবর পেয়ে টংগিবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে সিরাজদিখান ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তার জন্য ডাকা হয়। দুই উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডে আলী হোসেন (৪০), জামাল হাওলাদার (৫০), শাহ আলম হাওলাদার (৬০), শাহান শাহ হাওলাদার (৪৮), কাইয়ুম হাওলাদার (৬০) ও আমান হোসেন (৪৫)—এই ছয় পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ভস্মীভূত হয়।
টংগিবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ছয়টি বসতঘর পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে।