আন্দোলন দমাতে বাসাবাড়িতে ঢুকে গুলি, ইতিহাসে নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ
ঢাকা, বাংলাদেশ — ২০ জানুয়ারি ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের মতো হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রামপুরায় আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ২৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, রামপুরা ছিল একটি ‘হটস্পট’। সেখানে বাসাবাড়িতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শুনানির সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম মুন। এ মামলায় পলাতক রয়েছেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের পর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন।
এদিন সাক্ষ্য দেন বিশ্বজিৎ রাজবংশী। তাঁর বাবা গঙ্গাচরণ রাজবংশী রামপুরায় আন্দোলন চলাকালে বিজিবির গুলিতে নিহত হন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেরা করার জন্য আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।