ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীরের সাম্প্রতিক অভিযোগকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনো ধরনের চুক্তি হয়নি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীন।
তিনি জানান, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতি ইঙ্গিত করে দাবি করেন—বিএনপি ভারতের সঙ্গে তিনটি চুক্তি করেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
মাহাদী আমীন বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা ভারতের সঙ্গে চুক্তির যে দাবি করেছেন, তার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি এবং পারবেনও না। কারণ এসব দাবির ন্যূনতম বাস্তবতা কিংবা সত্যতা নেই।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক অপকৌশল ও অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়। ভুল তথ্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলে সেটি হয় অজ্ঞতা, নয়তো সচেতন অপচেষ্টা। ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই এর মূল লক্ষ্য, যেখানে অপপ্রচার ও অপরাজনীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মাহাদী আমীন বলেন, “বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতায়ন।”
অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিএনপি ধারাবাহিক আন্দোলন করেছে। সীমান্তে ফেলানি হত্যার ঘটনায় সবার আগে রাজপথে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বিপরীতে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার রাজনীতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের অংশ।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ‘ইলেকশন হটলাইন’ সম্পর্কেও জানান তিনি। নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য প্রদান, ভোটারদের অভিযোগ গ্রহণ ও মতামত জানার জন্য বিএনপি চালু করেছে হটলাইন নম্বর ১৬৫৪৩ এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৮০৬৯৭৭৫৭৭। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বহু মানুষ এই সেবার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ সময় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে মাহাদী আমীন বলেন, একটি প্রতারক চক্র এসব কার্ড দেওয়ার নামে বিভিন্ন এলাকায় টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “এই কার্ডের নামে কেউ টাকা চাইলে সেটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে দলকে অবহিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সংবাদ ব্রিফিং শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার বন্ধ হয়ে দেশে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে উঠবে।