ঢাকা | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | রবিবার
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় সভাপতির বক্তব্যে এই নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসডিএ’র এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা। এর আগে ২০২২ সালে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এনএসডিএ একটি কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে আমাদের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের সকল উদ্যোগ ব্যর্থ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব জালিয়াতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“চাকরিদাতারা যেন বলেন—বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী এসেছে, তারা নিশ্চয়ই ভালো করবে।”
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালু হলে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা অত্যন্ত সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময়। তাদের জন্য সুযোগের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্প খাতে শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ ও দক্ষতা উন্নয়নে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন সহজ হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএ’র দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উদীয়মান খাতে স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস, সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলামের আওতায় আনা, জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জনবলকে পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতির মাধ্যমে জাতীয় সনদের আওতায় আনা।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি প্রদান নিয়েও আলোচনা হয়।
গভর্নিং বডির সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।