ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্তত ৩২টি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া অভিযোগ আমলে না নেওয়ায় তাদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি জোট নেতাদের।
রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে চার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন ১১ দলের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘জালিয়াতি’ করে অন্তত ৩২টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে। স্বল্প ভোটের ব্যবধানে ফল পরিবর্তন, ভোটগণনা ও ফলাফল প্রকাশে ত্রুটি এবং পুনর্গণনার দাবি তারা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন।
গেজেট প্রকাশ নিয়ে আপত্তি
আযাদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এত দ্রুত গেজেট প্রকাশ করায় অভিযোগ জানানোর সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালেই জামায়াত ও অন্যান্য জোটের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের কাছে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর গেজেট স্থগিত রেখে পুনর্গণনার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে কমিশন তা আমলে নেয়নি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গেজেট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় কমিশনের করণীয় সীমিত। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগ খোলা রয়েছে।
অনিয়মের অভিযোগ
আযাদ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের শেষ সময়ে কিছু কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের আংশিক ফলের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহার হয়েছে কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জালভোট, কালো টাকার ব্যবহার, হুমকি-ধমকি এবং কিছু স্থানে সহিংসতার ঘটনা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যালটে সিল মারা এবং দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আযাদ বলেন, হারানো অস্ত্র উদ্ধার না হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।
কারা ছিলেন প্রতিনিধিদলে
প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা নাজিবুর রহমান মোমেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি–র নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি–এর নেতারা।
প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকে অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।