ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ব্যালটে নিজেরাই সিল মেরেছেন এবং ফলাফল শিটে ঘষামাজা করেছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এ অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
মূল প্রতিবেদন
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহারসহ ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে।
তার দাবি, কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজেরাই ব্যালটে সিল মেরেছেন। কোথাও কোথাও ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে, যার ফলে ভোট কাস্টিং কম হয়েছে।
ভোটগণনা ও ফল প্রকাশ নিয়ে অভিযোগ
আযাদ আরও বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে অস্বাভাবিকভাবে বেশি ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে, যা অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। ভোট গণনার সময় এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ফলাফল শিটে ঘষামাজার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ঢাকা-৬ আসনে এজেন্ট পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্য বারবার কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও সন্তোষজনক পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৈঠকে কারা ছিলেন
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি–র নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি–এর কেন্দ্রীয় নেতারা।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।