ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতে যেসব নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে দাম হঠাৎ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছিল, সেসব পণ্যের বাজারদর এখন নিম্নমুখী। গত সপ্তাহের তুলনায় কোনো কোনো পণ্যের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এই স্বস্তি ফিরেছে।
ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, রমজানের শুরুর দিকে পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমে এসেছে। সামনে আরও কমতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খুচরা বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, রমজানের শুরুতে লেবুর হালি ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি আকারের লেবু ৫০ থেকে ৬০ টাকা। একইভাবে কলার হালি ৭০-১২০ টাকা থেকে কমে ২০-৫০ টাকায় নেমেছে। ১২০ টাকার বেগুন এখন ৭০-৮০ টাকা, ১৮০ টাকার কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকা এবং ৯০-৯৫ টাকার ছোলা এখন ৮০-৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আমদানি করা ফলের বাজারেও স্বস্তি ফিরেছে। রাজধানীর বাবুবাজার, নয়াবাজার, গুলিস্তান ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আপেল কেজি ২৬০-৩৫০ টাকা, ফুজি আপেল ২৮০-৩২০ টাকা, সবুজ আপেল ২৮০-৩৫০ টাকা, কমলা ২৬০-৩৫০ টাকা, মাল্টা ২৫০-৩০০ টাকা, নাশপাতি ৩০০-৩৫০ টাকা, সাদা আঙুর ৪৮০-৫৫০ টাকা, কালো আঙুর ৫৫০-৬০০ টাকা এবং আনার ৪০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ড্রাগন ফল ১৮০-২০০ টাকা এবং সফেদা ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ফলভেদে কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
সবজির বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। করলা ১৬০ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকা, আলু ২০ টাকা থেকে ১৪-১৫ টাকা, লাউ ১০০ টাকা থেকে ৫০-৬০ টাকা এবং টমেটো ১০০ টাকা থেকে ৪০-৬০ টাকায় নেমেছে।
সবচেয়ে বেশি কমেছে ডিমের দাম। কারওয়ান বাজারে ডজনপ্রতি ডিম ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি, যা রমজানের শুরুতে ২০০-২২০ টাকায় উঠেছিল, বর্তমানে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি ও সয়াবিন তেলের দামও কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন মুদি ব্যবসায়ীরা।
বাজার তদারকিতে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রভাবও পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, র্যাবের মোবাইল টিম ও বিএসটিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, সঠিক মনিটরিং বজায় থাকলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, রমজানের শুরুতে নজরদারির ঘাটতিতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হলেও নতুন সরকারের পদক্ষেপে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তদারকি অব্যাহত থাকলে সিন্ডিকেটভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হবে।