সীমান্ত সংঘর্ষে বেসামরিক নিহতের প্রতিবাদ, সেনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ
গারদেজ, আফগানিস্তান | ০৫ মার্চ ২০২৬
সীমান্ত সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন শত শত আফগান নাগরিক। আফগানিস্তানের গারদেজ শহরে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা সীমান্তে লড়াইরত নিজেদের সেনাদের প্রতি সমর্থন জানান।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, আফগানিস্তানের বিভিন্ন সীমান্ত প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামেন। তারা আফগান সেনাদের গলায় রঙিন ফুলের মালা পরিয়ে সমর্থন জানান।
জাতিসংঘ এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষে কয়েক ডজন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের রাজধানী গারদেজে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। অনেককে তালেবান সরকারের সাদা পতাকা নাড়াতে দেখা যায়।
একজন বিক্ষোভকারী গামাই বলেন, “আজ আমরা পাকতিয়ার কেন্দ্র গারদেজে জড়ো হয়েছি আফগান বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পাকিস্তানের হামলার প্রতিবাদ জানাতে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের ভূমি রক্ষার জন্য এখানে এসেছি।”
আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শিশুসহ অন্তত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১০৪ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসলামাবাদ এখনো বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের সেনারা সংঘর্ষে ৪৩০ জনের বেশি আফগান সেনাকে হত্যা করেছে।
তবে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রায় ১৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। দুই পক্ষের হতাহতের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
পাকিস্তানের আগের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে আফগান সীমান্তে অভিযান চালানোর পর এই সংঘর্ষ শুরু হয়। ইসলামাবাদ বলেছে, ওই হামলায় তারা জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
খোস্ত প্রদেশের গুরবুজ জেলাতেও একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাটি সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিক্ষোভকারী ওবায়দুল্লাহ গুরবাজ বলেন, “আজকের এই প্রতিবাদ শুধু দেখানোর জন্য নয়। কুনারে নিহত ১৭ জন শহীদের জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি।”
৭০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি জানান, গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তে অবস্থানরত সেনারা খাদ্য ও পানির সংকটের মধ্যেও দেশ রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অন্তত ২৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে প্রায় ৬৬ হাজার আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, নানগারহার প্রদেশে তাদের একটি কেন্দ্র সংঘর্ষের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা আফগানদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেশটি আগেই তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছিল।
নানগারহারের এক বাসিন্দা ফারহাদ জানান, আগে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো থেকে নিয়মিত সহায়তা পাওয়া যেত। এখন তিনি নিজের খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “কখনো পেট ভরে, কখনো আধা পেট নিয়ে আমাদের দিন কাটাতে হয়।”