সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) | ১৪ মার্চ ২০২৬
ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালাতে গিয়ে সমুদ্রপথে জলদস্যুদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন ৩৬ রোহিঙ্গা। সন্দ্বীপের ইলিশঘাট এলাকায় স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ও নৌবাহিনী তাদের উদ্ধার করে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে এসেছে।
উদ্ধার অভিযান ও মানবিক সহায়তা
পুলিশ ও নৌবাহিনী ২৪ শিশুসহ ৩৬ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন। ফছিউল আলম বলেন, “ক্ষুধায় কাতরাতে দেখে আমরা গ্রামবাসী মিলে খাবারের ব্যবস্থা করেছি। বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের অবস্থায় আমাদের খুব আফসোস লাগছিল।”
রোহিঙ্গাদের ভ্রমণ ও জলদস্যুর হামলা
উদ্ধারকৃতদের সঙ্গে কথোপকথনে জানা যায়, হাশেম মাঝি নামক এক ব্যক্তির সহায়তায় তারা চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট নতুন ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছানোর চুক্তিতে মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা দিয়ে নৌকায় ওঠেন। লক্ষ্য ছিল উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প।
যাত্রা শুরু হয় ৯ মার্চ। পাঁচ দিনের এই দীর্ঘ যাত্রায় তারা তিন দিন জঙ্গলে ও দুই দিন নৌকায় কাটান। পথে নৌকা বিকল হলে নতুন নৌকা আনা হয়। জলদস্যুরা অস্ত্রের মুখে তাদের নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে গভীর রাতে সন্দ্বীপের নির্জন উপকূলে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃতদের তালিকা
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছে— মোবারক (১৭), জমির হোসেন (১৭), আয়াস (১৩), জেসমিন আক্তার (১২), সাদেক (২), মো: রেদোয়ান (১১), সুফিয়া (৩), আসমা (৫), মরিয়ম (৮), ফারুক (১০), ফাতেমা (৮), রায়হান (৬), ওমর (৪), ওমায়ের (২), আয়াস (৮ মাস), শামীমা (৯), আনাছ (৫), জমির (১৬), জেসমিন (১২), জান্নাত (১০), মোশাররফ (৭), আবদুল্লাহ (৮), ফুফাইত (৪), নোমান (১৮ মাস), ইসলাম (৩৫), এরশাদ (২১), আজিম (৩৬), শামসুন্নাহার (২৭), বিবি আয়েশা (৪০), আরোফা (২৬), জোহরা (২৫), হালিমা (২৮), ইয়াসমিন (১৮), কাউছার (১৯), সাইফুল্লাহ (১৯) এবং আব্দুল আজিজ (২৯)।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
সন্দ্বীপ থানা ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাদের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) তত্ত্বাবধানে পুনরায় ভাসানচরে স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া চলমান।