নবণীতা রহমান
ঢাকা | ১৫ মার্চ ২০২৬
এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। এই উৎসবে শুধু নিজেকে সাজালেই হয় না, সাজাতে হয় ঘরবাড়িকেও। তাই ঈদ সামনে রেখে অনেকেই ভাবছেন কীভাবে ঘরের অন্দরমহলকে মনের মতো সাজিয়ে তোলা যায়।
মনের মতো অন্দরের সাজ
আবহমানকাল থেকেই বাঙালিরা গৃহসজ্জার জন্য পরিচিত। বিশেষ কোনো উৎসবের সময় হলে তো কথাই নেই। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে নিজের স্বস্তির নীড়কে সুন্দর করে সাজানোর ইচ্ছা কমবেশি সবারই থাকে।
গৃহসজ্জার মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায় মানুষের রুচি, পছন্দ, জীবনধারা ও আভিজাত্য। তাই ঘর সাজানোর আগে সব দিক ভেবেচিন্তে পরিকল্পনা করা জরুরি। সুন্দরভাবে সাজানো ঘর যেমন পরিবেশকে মনোরম করে তোলে, তেমনি মনেও আনে প্রশান্তি ও আনন্দ।
দেওয়ালের রঙে আনুন নতুনত্ব
গৃহসজ্জার প্রথম ধাপ হতে পারে দেওয়ালের রঙ। ঘরের প্রতিটি কামরা দৃষ্টিনন্দন করে সাজাতে রঙের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
দরজা-জানালার পর্দা, বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও কুশনের পরিবর্তন এনে ঘরের সাজে আনা যায় নতুন মাত্রা। চাইলে তাজা ফুল দিয়েও সাজাতে পারেন ঘর।
পর্দা, আসবাব ও বিছানার চাদরের রঙ
প্রকৃতিতে এখন বসন্তকাল, সামনে গরমের সময়। তাই ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে হালকা বা উজ্জ্বল—দুই ধরনের রঙই বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সাদা বা শীতল কালার প্যালেটের রঙ ঘরের পরিসরকে প্রশস্ত দেখায় এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করে। তবে সাদা রঙ দ্রুত ময়লা হয় ভেবে অনেকে তা এড়িয়ে চলেন। সেক্ষেত্রে অফ-হোয়াইট, ছাই, গোলাপি, সবুজ বা নীলাভ রঙ বেছে নেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া সাদা কাপড়ে গাঢ় রঙের ছাপা নকশার পর্দা বা ফুলেল ডিজাইনও বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।
পুরোনো আসবাবে নতুন রূপ
ঈদের সময় নতুন আসবাব কেনা সম্ভব না হলেও পুরোনো আসবাবে নতুন রূপ দেওয়া যায়। রং করে বা পালিশ করে আসবাবে নতুনত্ব আনা যায়।
এ ছাড়া ঘরের আসবাবের অবস্থান পরিবর্তন করলেও ঘরের পরিবেশে নতুন ভাব আসে।
পর্দা পাল্টে নিন
গরমের সময় খুব মোটা কাপড়ের পর্দা ব্যবহার না করাই ভালো। পাতলা কাপড়ের পর্দা বাতাস চলাচলে সহায়তা করে।
দেয়ালের রঙ হালকা হলে পর্দা একটু রঙিন রাখলে ঘরের সৌন্দর্য আরও বাড়ে।
টেবিল রানার ও ম্যাটে উৎসবের ছোঁয়া
ঈদের দিনে খাবার টেবিলের সাজও গুরুত্বপূর্ণ। টেবিল রানার ও ম্যাটের মাধ্যমে টেবিলকে উৎসব উপযোগী করে তোলা যায়।
উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙের রানার বা ম্যাট টেবিল সাজে এনে দিতে পারে ভিন্ন মাত্রা।
নিরীক্ষাধর্মী অনুষঙ্গ ব্যবহার
গতানুগতিক শোপিসের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে নতুন ধরনের সাজসজ্জা। যেমন—পেইন্টিং, ওয়াল হ্যাংগিং, টেবিল ম্যাট বা ফ্রিজ ম্যাগনেট।
ভ্রমণের সময় আনা স্যুভেনির দিয়েও সাজানো যায় ঘরের বিভিন্ন কোণ।
পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জা
ঘর সাজাতে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করাই ভালো। প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাট, চট বা প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ঝুড়ি, ওয়ালম্যাট বা টেবিলম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ছাড়া কাঠ, বেত বা বাঁশের তৈরি ঝুলন্ত দোলনাও ঘরের ইন্টেরিয়রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তৈজসপত্রে রাখুন নান্দনিকতা
ঈদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অতিথি আপ্যায়ন। তাই প্লেট, গ্লাসসহ তৈজসপত্রেও রাখতে পারেন নান্দনিকতার ছোঁয়া।
মোগল বা পারস্য নকশার বাসনপত্র কিংবা টেরাকোটার তৈজসপত্র ব্যবহার করলে অতিথি আপ্যায়নে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়।
ঘরে সবুজের ছোঁয়া আনুন
ইনডোর প্লান্টস ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছোট টবে গাছ লাগিয়ে ঘরের ভেতরে রাখা যেতে পারে।
কম পরিচর্যায় ভালো থাকে এমন গাছের মধ্যে রয়েছে—
- Pothos
- Peace Lily
- Snake Plant
এ ধরনের গাছ ঘরের পরিবেশকে যেমন সতেজ রাখে, তেমনি চোখ ও মনেও আনে প্রশান্তি।
সমাপনী
ঈদের আনন্দ আরও বাড়াতে নিজের ঘরকে সাজিয়ে তোলা হতে পারে সবচেয়ে আনন্দের কাজ। একটু পরিকল্পনা, সৃজনশীলতা এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করলেই অন্দরমহল হয়ে উঠতে পারে একদম মনের মতো।