ঢাকা | ১৫ মার্চ ২০২৬
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ মজুতের অভিযোগে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযান চালিয়ে ৬৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিস্তারিত বিবরণ
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকার বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান-এর তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ।
এ সময় বাসার এক কোণে রাখা চারটি ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে ৬৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মদের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতল, যার প্রতিটি ৭৫০ মিলিলিটার করে। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মদের পরিমাণ প্রায় ৪৮ লিটার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
- মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪)
- মো. আবদুর রহমান (৩৭)
তাদের কাছ থেকে মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে যা জানা গেছে
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিএনসি জানতে পারে, গাউসুল আজম প্রিন্স দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মদ পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল।
অন্যদিকে আবদুর রহমান ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা সীমান্ত এলাকা থেকে এসব ভারতীয় মদ সংগ্রহ করে ঢাকায় সরবরাহ করতেন।
রমজান ও ঈদে চাহিদা বাড়বে—এই সুযোগে তারা বিপুল পরিমাণ মদ মজুত করে রেখেছিল বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, চোরাইপথে আনা এসব মদে প্রায়ই ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভেজাল মদ সেবনে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
প্রেক্ষাপট
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে একটি ভেজাল মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছিল ডিএনসি।
সমাপনী
ডিএনসি জানিয়েছে, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশজুড়ে অবৈধ মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।