সুনামগঞ্জ, ২৯ মার্চ ২০২৬
লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে একটি নৌকা ডুবে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের অদূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গ্রিক কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ২৬ জনের ভাষ্য অনুযায়ী নৌকায় থাকা অন্তত ২২ জন মারা যান।
সুনামগঞ্জের দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার ১২ জন নিহত হয়েছেন। দিরাই উপজেলার ছয়জন হলেন: তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮), বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (নিখোঁজ, ধারণা মৃত)।
দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগরের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়েখ আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীও নিহত হয়েছেন।
নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, দিরাই উপজেলার এক মানব পাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। বড় ও নিরাপদ নৌকায় নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় উঠানো হয়, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাটিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল চৌধুরী বলেন, “লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তায়েফ আর আমাদের মাঝে নেই—এই খবরটা খুব কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।”