চট্টগ্রাম | প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে জাহাজভাড়া বাড়ছে, যা বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য রুটে ভাড়া বেড়েছে
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপগামী ৪০ ফুট কনটেইনার পরিবহনের ভাড়া ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ ডলারের মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে পরিস্থিতি আরও কঠিন। আগে যেখানে একটি কনটেইনার পাঠাতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলার খরচ হতো, এখন সেই ভাড়া ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বড় শিপিং কোম্পানিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ রুট এড়িয়ে চলায় সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে।
জ্বালানি ব্যয় ও যুদ্ধঝুঁকির প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অনেক শিপিং কোম্পানি হরমুজ প্রণালি ও রেড সি এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করছে। এতে যাত্রাপথ ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে এবং জ্বালানি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
একই সঙ্গে বড় বড় শিপিং লাইনগুলো জরুরি জ্বালানি সারচার্জ আরোপ শুরু করেছে। বিভিন্ন রুটে প্রতি কনটেইনারে ২০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত জ্বালানি ফি যোগ হচ্ছে।
এপ্রিলেও বাড়তে পারে ভাড়া
শিপিং সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ১ এপ্রিল থেকে আবারও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মেইন লাইন অপারেটররা নতুন করে ভাড়া সমন্বয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু কোম্পানি লোকাল এজেন্টদের মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছে।
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা জাহাজ পরিচালনার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া জাহাজভাড়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে তৈরি পোশাক খাতে। কারণ বর্তমানে যেসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশ অর্ডার নেওয়া হয়েছিল গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে, তখনকার কম ভাড়া কাঠামোর ভিত্তিতে। ফলে বাড়তি পরিবহন ব্যয় এখন রপ্তানিকারকদেরই বহন করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যদি হরমুজ প্রণালি থেকে রেড সি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাহলে পুরো সমুদ্র বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে অনেক শিপিং কোম্পানি ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সীমিত করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ট্রাফিক স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারকে শিপিং খাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অন্যথায় জাহাজভাড়া বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।