বিএনপি, জামায়াত ও বাসদ প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে এলাকায় উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন
শেরপুর
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
আগামী ৯ এপ্রিল শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিতকৃত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেষ মুহূর্তের নির্বাচনি প্রচারে প্রার্থীরা এলাকায় সভা-সমাবেশ ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
নির্বাচনে তিনটি প্রধান দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান(কাঁচি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপি প্রার্থী রুবেল গত দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকার পর এই আসন পুনরুদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। তিনি ত্রাণ, দুর্যোগ ও স্থানীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত থেকে সাধারণ ভোটারের মধ্যে প্রভাবশালী। জয়ের জন্য বিএনপির পরিবারও নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। স্ত্রী ফরিদা হক দিপা এবং মেয়ে রুবাইদা হক রিমঝিম প্রত্যন্ত অঞ্চলে উঠান বৈঠক করছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত ছেলে রাফিদুল হক তরুণ ভোটারদের কাছে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং শেরপুর জেলা জামায়াতের ব্যবসায়িক শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি তার বড় ভাই মরহুম নুরুজ্জামান বাদল-এর জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে প্রভাব ফেলছেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুবেলকে ‘পরীক্ষিত এমপি’ মনে করছেন অনেকে। তারা আশাবাদী, বিএনপি সরকার থাকায় জয়ের পর বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্প এলাকায় বাড়বে। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থকরা মনে করছেন, মাসুদ তার বড় ভাইয়ের নেতৃত্বকে উত্তরসূরি হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির রুবেল বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লা আমার জানা। নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব।”
জামায়াত প্রার্থী মাসুদ বলেন, “মানুষ চাঁদাবাজ ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্তি চায় এবং জামায়াতকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দেখছে। আমার বড় ভাইয়ের স্বপ্ন অনুযায়ী আমি কাজ করছি।”
বাসদ প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়, আমি সেই ধারাকে সামনে নিয়ে ভোটারদের কাছে এসেছি। জয়ী হলে সমস্যার সমাধান ও ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন করব।”
পেছনের প্রেক্ষাপট
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের প্রথমে স্থগিত হওয়ার কারণ ছিল জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের ৩ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু। পরে নির্বাচন কমিশন নতুন করে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করেছে।
ইতিহাস
১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালে এমপি নির্বাচিত হন ডা. সেরাজুল হক। ১৯৯৫ সালে উপনির্বাচনে তার বড় সন্তান মাহমুদুল হক রুবেলএমপি হন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও এমপি নির্বাচিত হন।