যোগাযোগ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধার কারণে শিল্পায়নের কেন্দ্র হতে পারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় নতুন একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যোগাযোগ, জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোর সুবিধার কারণে এই ইপিজেড কেবল কসবা নয়, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ Bangladesh Export Processing Zones Authority-এর নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) তানভীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কসবায় ইপিজেড স্থাপনের বিষয়টি জানানো হয়। ওই চিঠিতে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কসবা অঞ্চলের আশপাশে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে। আশুগঞ্জ নদীবন্দর আমদানি-রপ্তানির দ্রুততম রুট হিসেবে পরিচিত। আখাউড়া রেলওয়ে জংশন অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
একইসঙ্গে তিতাস গ্যাস ফিল্ড দেশের অন্যতম প্রধান গ্যাস সরবরাহ উৎস। কসবা অঞ্চলের সালদা, কাশীরামপুর ও তারাপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবহন—শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব সুবিধাই এই অঞ্চলে রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাও কসবাকে শিল্পায়নের জন্য উপযোগী করে তুলেছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে। ঢাকা তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা, সিলেট প্রায় তিন ঘণ্টা এবং ভারতের আগরতলা শহর মাত্র এক ঘণ্টার সড়ক পথ দূরে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া-এর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত ২৪ মার্চ তিনি বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের কাছে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে একটি চিঠি দেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তিনলাখপীর এলাকা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক-এর পাশে অবস্থিত। এখান থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর ও আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের দূরত্বও কম। ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে এলাকাটি আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।