ইসলামাবাদ বৈঠকের আগে শর্ত, পাল্টা হুমকি ও মতপার্থক্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আজ পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-এ বসতে যাচ্ছে। তবে বৈঠকের আগেই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যা আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন
শনিবার (১১ এপ্রিল) নির্ধারিত এই বৈঠকের জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদল রওনা দিয়েছে এবং ইরানের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তবে আলোচনার আগেই উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইল-সম্পৃক্ত সংঘাতসহ আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমালেও, চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে নতুন করে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি লেবাননে চলমান সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না—এই প্রশ্নে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, আলোচনা শুরুর আগেই মতপার্থক্য সমাধান না হলে পুরো প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে।
তিনি জানান, দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো বাস্তবায়িত হয়নি—লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা। সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টেও তিনি এসব শর্ত পূরণের ওপর জোর দেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই পূর্বশর্তগুলো পূরণ না হলে আলোচনা শুরুই হবে না।
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।
ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ইঙ্গিত দেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেবে এবং সমঝোতা না হলে বিকল্প পথও খোলা থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, জব্দকৃত সম্পদ এবং লেবানন পরিস্থিতি—এসব ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে।
সূত্র
- আল জাজিরা
- আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষণ