ঢাকা, শুক্রবার: শিশু ধর্ষণ, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মবসন্ত্রাসের ঘটনায় দেশে গণআতঙ্ক বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাইফুল হক বলেন, “একটি দায়বদ্ধ নির্বাচিত সরকারের আমলে সামাজিক নৈরাজ্য কোনোভাবেই প্রশ্রয় পেতে পারে না। শিশু রামিসাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্ষণ, নৃশংস হত্যা ও মবসন্ত্রাসের যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্তযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব মানুষের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সরকার এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাবও জনগণের কাছে গুরুত্ব হারাবে।
ধর্ষক, হত্যাকারী ও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সাইফুল হকের মতে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কিছু অগ্রগতি অর্জন করলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান দুর্বল করছে। বিশেষ করে গণভোট ও সংস্কার ইস্যুতে সরকারের অর্জন বিরোধীদের হাতে চলে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, সমাজে মানুষের মূল্যবোধের অবক্ষয় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এটি প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি গণতন্ত্র রক্ষায় পরমতসহিষ্ণু সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সংস্কার না হওয়ায় জনগণ প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি দেশের অর্থনৈতিক সূচক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়ছে। করের আওতা বৃদ্ধি, সম্পদ ও উত্তরাধিকার কর চালুরও পরামর্শ দেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তবে নতুন সরকারের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি ভারতের সঙ্গে মর্যাদাভিত্তিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি জানান।
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আমিরুল মোমেনিন মানিক বলেন, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত না করে গণতান্ত্রিক উত্তরণে জনগণের ওপর নির্ভর করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ আবদুন নূর বলেন, সরকারের সদিচ্ছা দৃশ্যমান হলেও তা যথেষ্ট নয়। জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।