মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে United Arab Emirates। এ বিষয়ে Saudi Arabia ও Qatar-এর সঙ্গে সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউএই আরও সক্রিয়ভাবে যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরানের পাল্টা হামলায় পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে ইউএই, সৌদি আরব ও কাতারের নেতারা বলেছেন, সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। বরং আলোচনার পথ খোলা রাখাই বেশি কার্যকর হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএইর এই অবস্থান দেশটির আগের কঠোর নীতির তুলনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। অতীতে তেহরানের বিরুদ্ধে আবুধাবি প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় কঠোর অবস্থানে ছিল।
যদিও ইরানের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হওয়া উচিত, তা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবুও তারা সবাই ফেব্রুয়ারি-মার্চের সংঘাতময় পরিস্থিতি পুনরায় ফিরে আসুক, তা চায় না।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে Israel ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই সংঘাত চলাকালে ইরান ও ইরানপন্থি ইরাকি গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজারো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে বহু হতাহতের পাশাপাশি বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষক Dina Esfandiary বলেন, “উপসাগরীয় আরব দেশগুলো তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বাস্তব রূপ দেখেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মাঝখানে আটকা পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে।”
এদিকে যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও Iran-এর মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। গত ৮ এপ্রিল উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio শুক্রবার জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি গণমাধ্যমও। একই দিনে Asim Munir-এর ইরান সফরের খবর সামনে আসে, যা সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক এক ড্রোন হামলার ঘটনায়। গত রোববার ইউএইর একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হয়, যার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে আবুধাবি।
পরদিন ট্রাম্প জানান, সৌদি যুবরাজ Mohammed bin Salman, ইউএই প্রেসিডেন্ট Mohamed bin Zayed Al Nahyan এবং কাতারের আমির Tamim bin Hamad Al Thani-এর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তাদের অনুরোধেই তিনি ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছেন বলে জানান।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশঙ্কা, Israel-এর চাপের মুখে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে অতিরিক্ত হামলার প্রয়োজন হতে পারে।