ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য বার্তা নিয়ে মুসলমানদের দুয়ারে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আজ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়—
“শহীদের ঈদ এসেছে আজ শিরোপরি খুন-লোহিত তাজ,
আল্লার রাহে চাহে সে ভিখ :
জিয়ারার চেয়ে পিয়ারা যে আল্লার রাহে তাহারে দে,
চাহি না ফাঁকির মণিমানিক।”
দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৮টায়। এছাড়া বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদুল আজহা, যা মুসলমানদের কাছে ‘কোরবানির ঈদ’ নামেই অধিক পরিচিত। এদিন মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কিংবা উট কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ—এই তিন দিনের যেকোনো দিন পশু কোরবানি করা যায়। ফলে ঈদের আনন্দ ও আমেজও বিরাজ করে তিন দিনজুড়ে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টানানো হবে ‘ঈদ মোবারক’ লেখা ব্যানার ও ফেস্টুন।