ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা এখনো বহাল পদে, তদন্তের মুখোমুখি নন ক্ষোভ ছাত্র–জনতার
নিজস্ব প্রতিবেদক | Daily Crisis BD | ঢাকা | ২০ অক্টোবর ২০২৫
২০২৫ সালের ১৮ জুলাইয়ের ভয়াবহ দমন–অভিযান ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানের নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তাকে ওই সময়কার ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং ছাত্র–জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের নির্দেশে যেসব সামরিক কর্মকর্তা আন্দোলন দমনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশই এখনো শপথে বহাল। কিন্তু কোনো ধরনের প্রশাসনিক তদন্ত বা বিচার হয়নি।
🔹 ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা
১৮ জুলাই রাতে সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে চলমান হত্যাকাণ্ড, গুলি ও দমন-পীড়নের দৃশ্য বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা হয়নি, বরং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশ যোগাযোগবিহীন হয়ে পড়ে।
একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
১৮ জুলাইয়ের রাতে যে কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশ গিয়েছিল, মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
🔹 ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ নিয়ে ক্ষোভ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও এই কর্মকর্তাদের জবাবদিহি না হওয়া “রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তির সংস্কৃতি”-র অংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন,
যারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দমননীতি বাস্তবায়ন করেছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতের প্রশাসনও একই ভুল করবে।”
🔹 ছাত্র–জনতার স্মৃতি: রক্ত, ভয় ও অন্ধকার রাত
১৮ জুলাই সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সারাদেশে আন্দোলনরত ছাত্র–জনতার ওপর ব্যাপক হামলা চলে।
বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার, গুলি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে একযোগে। রাত ৮টার পর হঠাৎ সব ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সারা দেশ অন্ধকারে ডুবে যায় সংবাদ, ভিডিও, লাইভ সম্প্রচার সব বন্ধ হয়ে যায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
🔹 তদন্ত দাবি ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ১৮ জুলাইয়ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
তারা বলছে,
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে বিশেষ করে মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের— স্বাধীন তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
🔹 শেষ কথা
১৮ জুলাইয়ের দমননীতি কেবল একটি দিনের ঘটনা নয় এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে “রাষ্ট্রীয় অপরাধ”-এর প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আর সেই ঘটনার অন্যতম চরিত্র হিসেবে মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা এখন জনতার বিচারের দাবিতে পরিণত হয়েছে।