স্টাফ রিপোর্টার |Daily Crisis BD/ চট্টগ্রাম
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় আবারও সহিংসতা বাড়ছে। সম্প্রতি ইউপিডিএফ ও জেএসএস সশস্ত্র গ্রুপগুলোর হামলা, গুলি বিনিময় ও অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছেন সেনা সদস্যরাও, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এই অবস্থায়ও কেন সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের নীতি বহাল রাখা হয়েছে? কাদের সন্তুষ্ট করতে পাহাড় থেকে সেনা ক্যাম্প সরানো হচ্ছে— সেই প্রশ্ন আজ পাহাড়ি জনগণসহ গোটা দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
শান্তি চুক্তির পরও শান্তি আসেনি
১৯৯৭ সালের তথাকথিত “শান্তি চুক্তি”র পর থেকে ধীরে ধীরে পার্বত্য এলাকায় সেনা ক্যাম্পগুলো তুলে নেওয়া হয়। সরকারের দাবি ছিল— চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে পাহাড়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টো চিত্র।
চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির দুর্গম এলাকাগুলোতে ইউপিডিএফ, জেএসএস ও তাদের বিভিন্ন উপদলগুলো আবারও প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গ্রুপের সদস্যরা চাঁদাবাজি, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য নিয়মিত সংঘর্ষে জড়াচ্ছে।
বারবার সেনা সদস্যদের ওপর হামলা
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে পাহাড়ি এলাকায় টহলরত সেনা সদস্যদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা “রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ” করার শামিল। তবুও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের পর থেকেই পাহাড়ে আবার ভয় ফিরে এসেছে। প্রশাসন ও পুলিশ পাহাড়ের গভীরে যেতে সাহস করে না। সেনা না থাকলে সাধারণ মানুষ একপ্রকার অসহায়।”
কাদের জন্য এত নরম নীতি?
প্রশ্ন উঠেছে— সরকার আসলে কাদের তুষ্ট করতে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করছে? স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিশ্লেষকদের মতে, “রাজনৈতিক সমঝোতা” বা “কূটনৈতিক সৌজন্যতা”র নামে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে।
কারণ, যেসব অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর সঙ্গে একসময় শান্তি চুক্তি হয়েছিল, তারাই এখন নতুন প্রজন্মে অস্ত্র তুলে নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন “নিরাপত্তার বলয় শক্ত করা”।
অবসরপ্রাপ্ত এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বলেন,
“যখনই পাহাড়ে সেনা উপস্থিতি কমানো হয়, তখনই সশস্ত্র গ্রুপগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে, তবে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার কোনোভাবেই সমাধান নয়।”
নতুন করে সেনা ক্যাম্প পুনর্বহালের দাবি
স্থানীয়রা জোরালোভাবে দাবি তুলেছেন— পূর্বে প্রত্যাহার করা সেনা ক্যাম্পগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপন করতে হবে। কারণ, তাদের মতে সেনা উপস্থিতি থাকলে চাঁদাবাজি, অপহরণ, নারী নির্যাতন ও সন্ত্রাসী তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
একজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন,
“আমরা শান্তি চাই, কিন্তু ভয়ভীতির মধ্যে নয়। সেনা ক্যাম্প থাকলে অন্তত রাতের ঘুমটা শান্তিতে হয়।”
উপসংহার
বর্তমান পরিস্থিতিতে “শান্তি চুক্তি”র নামে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের নীতি আবারও প্রশ্নের মুখে। পাহাড়ে শান্তি নয়, বরং অরাজকতা ও সন্ত্রাস আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখনই প্রয়োজন দৃঢ় অবস্থান — এবং তা শুরু হোক সেনা ক্যাম্প পুনর্বহাল দিয়ে।