গণভোট প্রসঙ্গে বিরোধী দলগুলোর অশালীন প্রতিক্রিয়াকে দুঃখজনক ও অগণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট শিশির মনের। তিনি বলেন, “আপনাদের দ্বিমতের বিষয়গুলো গণভোটে পাঠানো হচ্ছে—এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। অথচ আপনারা তা নিয়ে অশালীন ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। এটি কোনোভাবেই রাজনৈতিক শালীনতার পরিচায়ক নয়।”
শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিশির মনের বলেন, “গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই মতের নিষ্পত্তি গণভোটের মতো সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করার সুযোগ তৈরি হয়, তখন সেটিকে বর্জন করা বা কটূভাষায় আক্রমণ করা আসলে জনগণের মত প্রকাশের অধিকারকে অগ্রাহ্য করা।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেউ কেউ গণভোটের পরিবর্তে ‘গণঅভ্যুত্থান’কে প্রাধান্য দিতে চাইছেন। কিন্তু সেটিও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, এই অভ্যুত্থান তাদের নেতৃত্বে হয়নি—এটা হয়েছে ছাত্রদের নেতৃত্বে। তাই তারা সেটিকে মানতে পারছেন না।”
অ্যাডভোকেট শিশির মনের মতে, গণঅভ্যুত্থান বা আন্দোলন গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা কখনোই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়। “দেশের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ, কোনো দল বা গোষ্ঠী নয়। গণভোট সেই জনগণের রায় জানানোর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উপায়,যোগ করেন তিনি।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, “অভিযোগ বা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে গণভোটের প্রচারে অংশ নিন। জনগণের মতামতকেই চূড়ান্ত ম্যান্ডেট হিসেবে গ্রহণ করুন।”
সভায় উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও গণভোটকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের পথ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।