স্কুলজীবন থেকে পারিবারিক সূত্রে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন সাথী। যশোর জেলায় ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলনে নেতৃবৃন্দের সহযোগী হিসাবে ভূমিকা রাখেন। হয়ে ওঠেন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের সদস্য’। সাথী মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, যশোর ঘুরে ঘুরে ছাত্রীদের সংগঠিত করতেন। হেনস্তার শিকার হলেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালে রওশন জাহান সাথীদের যশোরের বাড়িতে পাক আর্মি দুইবার রেড দিয়েছিল। বাড়ি তল্লাশি করেছিল। পাক-বাহিনীর ধারণা ছিল আগরতলা মামলার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তাদের ঘরে আছে। সত্যিই ছিল, সেই গোপন ফাইল রওশন জাহান সাথী শরীরে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
ওই ঘটনার পর তিনি হয়ে উঠেছিলেন আরও অদম্য। একাত্তরে আবু জাহিদ পাকিস্তান এয়ারফোর্সে কর্মরত ছিলেন।অবকাশ যাপনে এসে সাথীকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন আবু জাহিদ। তার আগেই বন্দুক চালাবার প্রথম শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন বাবা মোশাররফ হোসেনের কাছে। তাদের দোতলা বাড়ির বারান্দা থেকে নিশানা ঠিক করে চোখের পাতার সাথে মিলিয়ে ট্রিগার টেপা ও বন্দুক কাঁধে রাখার বিষয়টি কত গুরুত্বপূর্ণ তা বাবা তাকে শিখিয়েছিলেন।
জীবন এখন শেষ বেলায়, পেছনে ফিরে তাকালে কত ছবি ভেসে আসে! কত মানুষ আর তাদের কত রকমের সংগ্রাম! আরও কত স্মৃতি বিস্মরণের অতলে হারিয়ে গেছে, তার ঠিক নেই। মুক্তিযুদ্ধের সাথে আমার আবেগ, সত্তা, অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে। আজ আমি ৭০ উত্তীর্ণ, কোষগ্রন্ধি ক্ষয়ে এসেছে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ আমার জীবনে অতীত হয় না।