ঢাকা, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশে যেন কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, মিছিল বা আন্দোলন না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকার জানায়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এটিই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
নিরাপত্তা জোরদারে তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য মাঠে থাকবে, যা দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি রেকর্ডসংখ্যক দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সরকার স্পষ্ট জানায়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত যেকোনো অবৈধ সমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা কর্মসূচি কিংবা উত্তেজনাকর কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বেআইনি সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন,
“গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভের মাধ্যমে জনগণ তাঁদের নায্য দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার সবসময় সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে। তবে এখন আমরা নির্বাচনমুখী সময় অতিক্রম করছি। তাই সকল দাবি-দাওয়া নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই সময়ে কেউ যেন অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন না করেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।