ডেস্ক রিপোর্ট |[Daily Crisis BD]
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনকে হুমকি নয়, বরং গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক ও অবশ্যম্ভাবী সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে জনগণের এই সাংবিধানিক ক্ষমতাকে ভয় নয়, বরং গণতান্ত্রিক বাস্তবতা হিসেবে দেখতে হবে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা একসঙ্গে দেশের বিচারিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করেছি। গত ১৬ মাসে আপনারা যে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হয় আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে। এই তিন অঙ্গের ভারসাম্যই একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি। সে কারণেই সুপ্রিম কোর্ট কেবল একটি ভবন নয়, এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জনগণই সংবিধানের প্রকৃত মালিক। সময়ের প্রয়োজনে জনগণ সংবিধান পরিবর্তনের অধিকার রাখে, আর বিচার বিভাগকে সেই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিচার বিভাগের শক্তি কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক অবস্থানে নয়, বরং ন্যায়, সংযম ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে সেবা দেওয়ার সম্মিলিত সংকল্পে।”
আইনজীবীদের অবদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারিক রায়ের পেছনের যুক্তি, ভাষা ও কাঠামো তৈরিতে আইনজীবীদের ভূমিকা অপরিসীম, যা প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রধান বিচারপতির কর্মময় জীবন ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারে তাঁর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে বিচার বিভাগ ‘হতাশার শীতকাল’ পেরিয়ে স্বচ্ছতা ও আস্থার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, মেধাভিত্তিক বিচারক নিয়োগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল বিচার কার্যক্রম এবং বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বিচার বিভাগে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতিও প্রধান বিচারপতির সততা, সাহসিকতা ও সংস্কারমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করবেন। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশ ও বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণকারী এই প্রথিতযশা বিচারক তাঁর স্বল্প মেয়াদেই বিচার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের ছাপ রেখে যাচ্ছেন।