ঢাকা | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মনোনীত চার সংসদ সদস্য প্রার্থী। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, মাদক, যানজট ও জলাবদ্ধতা নির্মূলে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
দৈনিক আমার দেশ-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই প্রত্যয়ের কথা জানান ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৩ আসনের গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৬ আসনের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং ঢাকা-৪ আসনের তানভীর আহমেদ রবিন।
সাক্ষাৎকারে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করে ফ্যাসিবাদী সরকার নগরবাসীর সমস্যার সমাধান করতে পারেনি; বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আরও জটিলতা তৈরি করেছে। চার প্রার্থীর প্রত্যাশা—দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটিয়ে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
🔹 ঢাকা-৮ আসন | মির্জা আব্বাস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, রাজধানীর সবচেয়ে বড় সমস্যা যানজট। নির্বাচিত হলে এ সমস্যা নিরসনে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা করবেন।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক দূর করতে সামাজিক বিপ্লব প্রয়োজন। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনগণকে সচেতন করাও জরুরি—যাতে কেউ চাঁদা না দেয়।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়া আমি জানি, নির্বাচিত হলে কার্যকর উদ্যোগ নেব।” ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্ত করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “নিউইয়র্কের মতো বড় শহর ভাগ হয়নি, তাহলে ঢাকা ভাগ করে কী লাভ?”
এছাড়া জুলাই বিপ্লবে পঙ্গু ও হতাহতদের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মতো স্থায়ী সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
🔹 ঢাকা-৩ আসন | গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কেরানীগঞ্জকে আগামী ৫০–৬০ বছরের প্রয়োজন বিবেচনায় পরিকল্পিত নগরায়ণের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, ভূমিদস্যু ও অনিয়ন্ত্রিত হাউজিং প্রকল্প নগরায়ণের বড় বাধা। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্লান প্রণয়নের সুপারিশ করবেন তিনি।
মাদক প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, শুধু এলাকায় অভিযান নয়—উৎসমুখ ও সীমান্ত রুট বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত যুবকদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।
🔹 ঢাকা-৬ আসন | ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, পুরান ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাস সংকট ও যানজট। নির্বাচিত হলে গ্যাস সংকট নিরসনে অগ্রাধিকার দেবেন তিনি।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও মাফিয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে—সে যেই হোক না কেন। সরকারি টেন্ডার, ভূমি, পরিবহন, খাদ্যসহ সব খাতে সক্রিয় মাফিয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ঢাকা সিটি করপোরেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে দুই ভাগ করে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি; বরং সেবায় জটিলতা বেড়েছে।
🔹 ঢাকা-৪ আসন | তানভীর আহমেদ রবিন
ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, শ্যামপুর-কদমতলী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। নির্বাচিত হলে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করবেন।
তিনি বলেন, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার এবং কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এতে কৃষকরা সার, পরামর্শ ও ব্যাংক ঋণের সুবিধা পাবেন।