আল্লামা জুনায়েদ আহমেদ বাবুনগরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ছিলেন উম্মতের একজন সত্যিকারের রাহবার। বাংলাদেশে যখন ইসলামের ওপর আঘাত এসেছে, আলেম ওলামাদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে তিনি কওমি, আলিয়া, সুন্নি, সাধারণ মানুষ, জামায়াতে ইসলামী—সবাইকে এক সুতোয় গেঁথে ইসলামের হেফাজতে এক ঐতিহাসিক নেতৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন।
এই নেতৃত্বের মাধ্যমেই বাংলাদেশে মুসলমানরা নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে শিখেছিল, ইসলাম তার সম্মান ও অবস্থান ফিরে পেয়েছিল। হেফাজতের আন্দোলনের সময়, বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে যখন সবার ওপর নৃশংস আক্রমণ চালানো হয়েছিল, তখন কওমি, আলিয়া, সুন্নি, জামায়াত, সাধারণ মানুষ—সবাই এক হয়ে “কা আন্নাহুম বুনইয়ানুম মারসুস” এর বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। শাপলা চত্বরে সেই রাতে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছিলেন।
সেই কঠিন সময়ে শিবির ও জামায়াতে ইসলামী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। যদি সে সময় বিএনপির ভাইয়েরাও রাজপথে নামতেন, তাহলে বাংলাদেশে সেদিনই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারত। বেগম খালেদা জিয়ার ইচ্ছা ও আবেগ থাকা সত্ত্বেও বিএনপি সেই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি। কিন্তু যারা কর্মী, সমর্থক তারা রাজপথে হেফাজতের সাথে ছিলেন।
জেলে নেওয়ার পরও আল্লামা বাবুনগরী (রহ.) উম্মতের প্রতি যে দারাজদিলি ও সৌজন্যতা দেখিয়েছেন, তা ইতিহাসে বিরল। কাদের মোল্লা (রহ.) যখন তার কাছে খাবার পাঠিয়েছিলেন, তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন। সেই সময়ে কওমি ও জামায়াতের মধ্যে কথা বলা, একসাথে খাওয়া, এগুলোকে যেসব কৃত্রিম ট্যাবু বানানো হয়েছিল, তিনি সেগুলো সাহসের সঙ্গে ভেঙে দিয়েছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, উম্মতের ঐক্য কোনো দলীয় সীমার মধ্যে আটকে থাকতে পারে না।
এই কারণেই আল্লামা জুনায়েদ আহমেদ বাবুনগরী আমাদের রাহবার। তিনি শহীদ। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমতের অবকাশ নেই। তিনি শহীদদের সিপাহসালার হিসেবেই থাকবেন আজও, আগামীতেও।
এই বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। বাবুনগরী ছিলেন উম্মতের নেতা, আছেন উম্মতের নেতা হিসেবেই।
নির্বাচনেও জুলুম, দখল ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলতে হবে—এই আহ্বান আমি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।