পীরগাছা (রংপুর) | ১৪ মার্চ ২০২৬
পীরগাছা উপজেলার আলু চাষিরা আকস্মিক অকালবৃষ্টিতে তাদের ফসলের বড় অংশ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকেরা লোন নিয়ে বিনিয়োগ করা আলু এভাবে নষ্ট হওয়ায় গভীর হতাশা ও আর্তনাদ প্রকাশ করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও আবেগ
নুরনবী মিয়া, শামিম মিয়া, মোকসেদুল, সিরাজুল, রাসেল ও রেজাউলসহ অনেক কৃষক জানান, গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এবার নতুন বীজ ও সার কিনে আবাদ করা আলু পানির নিচে চলে গেছে। নুরনবী মিয়া বলেন, “হামার কপালত আল্লায় কী থুইছে ভাই, গেলবারও দাম পাই নাই, এবার ফির আলুগুলা পানির নিচোত। এই ক্ষতি ক্যামন করি সইমো?”
আবাদি জমির বর্তমান পরিস্থিতি
পীরগাছার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে পানি জমে আছে। কৃষকরা থালা-বাটি ও সেচ পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু বৃষ্টির দাপটে ব্যর্থ হচ্ছেন। কল্যাণী ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গত দুই দিনের বৃষ্টিতে আমার তিন একর আলু পানিতে তলিয়ে গেছে। লেবার দিয়ে পানি নিষ্কাশন করতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।”
ক্ষতির পরিমাণ
ছাওলা দক্ষিণ গাবুড়া, চর গাবুরা, রতনপুর, রামনিয়াশা ও গোরাইপিয়া এলাকা মিলিয়ে প্রায় শতাধিক একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধুরাম গ্রামের মাসুদ রানা বলেন, “এখন যদি বৃষ্টি না হয়, তবে প্রায় উৎপাদিত আলুর ২৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
কৃষি অফিসের মন্তব্য
পীরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আকস্মিক বৃষ্টিতে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির আলু পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। দ্রুত আলু তোলার পরামর্শ দিচ্ছি। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।” তবে বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির আলু বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
কৃষকদের অবিশ্বাস
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি প্রতিবেদন ও আশ্বাসের উপর তাদের অবিশ্বাস রয়েছে। তারা বলছেন, মাঠে না গিয়ে কর্মকর্তারা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে প্রতিবেদন তৈরি করেন, ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সহায়তার তালিকায় বাদ পড়েন।