প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬
বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানী ৮.২৬ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ২১.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সোমবার যাত্রী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের সড়ক মহাসড়কে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। সবমিলিয়ে ঈদে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। জাতীয় অর্থপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২১৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সর্বাধিক: প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ১২৫টি, এতে ১৩৫ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছেন। এটি মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ এবং আহতের ১০.৮৯ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৭১ জন চালক, ৫৫ জন শিশু, ৫১ জন নারী, ৫৪ জন পথচারী, ৪২ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৭ জন শিক্ষক, ৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ৩ জন প্রকৌশলী, ২ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ১ জন চিকিৎসক রয়েছেন।
যানবাহনের ধরন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল ২৭.১৬%, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ১৭.৭৩%, বাস ১৬.২২%, ব্যাটারিচালিত রিক্সা ১৫.২৮%, কার-মাইক্রো ৮.৪৯%, নছিমন-করিমন ৭.৭৩% এবং সিএনজিচালিত অটোরিক্সা ৭.৩৫% জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ৩৫.৮৩% মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৩৬% পথচারী চাপা দেওয়া, ২২.২৫% নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ০.৫৭% ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ ও ৮.৩৮% অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
ভূগোল অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ৪৩.০৬% জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৫% আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২১.৯৬% ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে ৪.০৪% এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.২৮% দুর্ঘটনা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণসমূহ
- মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, অটোরিক্সার অবাধ চলাচল।
- রোড সাইন, রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকা।
- রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ বাস উঠে আসা, রোড ডিভাইডার না থাকা।
- মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য।
- উল্টোপথে যানবাহন, চাদাঁবাজি, অতিরিক্ত যাত্রীবহন।
- অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন।
সুপারিশসমূহ
- সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্মার্ট ভাড়া ব্যবস্থা।
- মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা আমদানী ও নিবন্ধন বন্ধ।
- রাতের বেলায় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা।
- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ ও যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস।
- সরকার অনুমোদিত ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স প্রদান বন্ধ।
- মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা।
- সড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা, রোড সাইন ও মার্কিং।
- আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা ও বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি।
- মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও রোড সেইফটি অডিট।
- সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট চালু।
- ঢাকা অঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য পরিকল্পনা।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা বাস মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও নতুন সরকারের অধীনে সমস্যা আবার ফিরে এসেছে।