দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে
ঢাকা, বাংলাদেশ — ৮ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান চরম কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আসন্ন সাধারণ নির্বাচন একটি নতুন সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকারের প্রতি ভারতের ইতিবাচক বার্তা দুটি দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
কুগেলম্যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুই দেশের উত্তেজনা এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের শোকবার্তা এবং ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি দিল্লির কৌশলগত পরিবর্তনের প্রমাণ।
তবে দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে, এবং জাতীয় ক্রিকেট দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। কুগেলম্যান বলেন, দু’পক্ষই একে অপরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করছে, যা সম্পর্কের উন্নয়নের পথে জটিলতা তৈরি করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপির নতুন নেতৃত্ব তারেক রহমানের জাতীয় ঐক্যের ডাক এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার পদক্ষেপ ভারতের জন্য আশাব্যঞ্জক। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক হবে কেবল সমঅধিকারভিত্তিক।
ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে তারা কাজ করতে প্রস্তুত। কুগেলম্যানের মতে, সম্পর্ক পুনর্গঠন নির্ভর করছে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সাহসিকতা এবং বাস্তবমুখী কূটনীতি-এর ওপর।