টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে কি না—২১ জানুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বিসিবি
ঢাকা, বাংলাদেশ — ২০ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আইসিসির সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে বিসিবির একাধিক সূত্র।
গত পরশু রাতে ক্রিকেটবিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে জানায়, ২১ জানুয়ারির মধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বিকল্প দল হিসেবে সুযোগ পেতে পারে স্কটল্যান্ড। এর পর থেকেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলার আশঙ্কা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই প্রতিবেদনের পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। যদিও গতকাল বিকেলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, আইসিসি থেকে বিসিবিকে সিদ্ধান্ত জানাতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন দেওয়া হয়নি।
ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বিসিবি শুরু থেকেই অনড় অবস্থানে রয়েছে। বিসিবির চাওয়া ছিল, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। তবে সময় স্বল্পতা ও লজিস্টিক জটিলতার কারণে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে আইসিসি।
এ বিষয়ে দুই দফায় বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করে আইসিসি। বৈঠকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা।
শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা শেষ হওয়ার পর বিসিবি ভারতের মাটিতেই বিশ্বকাপে খেলার অনুরোধ জানায়। তবে নিজেদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত ভারতের বিমানে উঠবে না বাংলাদেশ দল—এমন সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে বাংলাদেশের জন্য শেষ সময় আগামী বুধবার।
যদিও গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের সামনে বিষয়টি অস্বীকার করেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন,
‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ভেন্যুর ব্যাপারে আমরা আমাদের অপারগতার কথা জানিয়েছি এবং বিকল্প ভেন্যুর অনুরোধ করেছি। আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছেন, বিষয়টি আইসিসিকে অবহিত করে পরবর্তী সময়ে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।’
তিনি আরও বলেন,
‘কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সীমা আমাদের জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, পরবর্তী বৈঠকের সময় জানানো হবে।’
তবে বিসিবির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত কার্যত চূড়ান্ত হয়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিচালক জানান, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিশ্চিত। এখন শুধু আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো বাকি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, লজিস্টিক জটিলতার কারণে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে আইসিসি। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের গ্রুপ অদল-বদলের একটি প্রস্তাব থাকলেও ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড তাতে নেতিবাচক অবস্থান নেয়। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই আইসিসির সঙ্গে চিঠি চালাচালি শুরু করে বিসিবি। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিশ্বকাপে খেলতে অপরাগতা প্রকাশ করে বোর্ড। এই নিরাপত্তা শঙ্কার সূত্রপাত হয় মূলত পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে। বিসিসিআই নিরাপত্তাজনিত কারণে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই ঘটনার পরই প্রশ্ন ওঠে—একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কীভাবে পুরো বাংলাদেশ দল, কোচিং স্টাফ, সংবাদকর্মী ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব?
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিসিবি।